বাংলা ভাষা একটি সমৃদ্ধ ও বহুমাত্রিক ভাষা, যার বিকাশের ইতিহাস বহু শতাব্দী জুড়ে বিস্তৃত। এই দীর্ঘ পথচলায় বাংলা ভাষা বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির সংস্পর্শে এসেছে এবং সেই প্রভাব ভাষার শব্দভাণ্ডারকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। আরবি, ফারসি, তুর্কি, ইংরেজি, চীনা, ফরাসি, মালয়সহ বিভিন্ন বিদেশি ভাষা থেকে বহু শব্দ বাংলায় প্রবেশ করেছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো বাংলা ভাষার স্বাভাবিক অংশে পরিণত হয়েছে। দৈনন্দিন জীবন, শিক্ষা, প্রশাসন, বাণিজ্য কিংবা সংস্কৃতির নানা ক্ষেত্রে আমরা এমন অসংখ্য শব্দ ব্যবহার করি, যেগুলোর উৎস বিদেশি ভাষায় হলেও আজ সেগুলো আমাদের নিজস্ব ভাষার মতোই পরিচিত ও প্রাসঙ্গিক।
অমর একুশে বইমেলা–২০২৬ উপলক্ষে brritto আয়োজিত ‘ভাষায় ভাসি’ ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের জন্য বিদেশি ভাষা থেকে বাংলায় বহুল ব্যবহৃত কিছু শব্দের তালিকা উপস্থাপন করা হয়েছে। এই তালিকার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধু শব্দগুলোর অর্থই নয়, বরং বাংলা ভাষার বহুমাত্রিক উৎস ও বিকাশ সম্পর্কেও ধারণা লাভ করতে পারবে। ভাষার উৎস ও শব্দের ইতিহাস জানার মাধ্যমে ভাষা শিক্ষার প্রতি আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা আরও গভীর হবে।
আরবি শব্দ : আইন, আকবর, আকিদা, আক্কেল, আখিরাত, আখের, আজব, আতর, আদত, আদব, আদালত, আমল, আমলা, আমানত, আমিন, আমির, আয়াত, আয়েশ, আরক, আরশ , আলাদা, আলেম, আলোয়ান, আল্লাহ্, আসবাব, আসল, আসামি, আহাম্মক, ইজারা, ইজ্জত, ইনকিলাব, ইনসান, ইনাম, ইন্তেকাল, ইবাদত, ইমান, ইমারত, ইশতেহার, ইশারা, ইসলাম, ইস্তফা, ইহুদি, ঈদ, উকিল, উযির, উসুল, এক্তিয়ার, এজমালি, এজলাস, এজাহার, এলাকা, এলেম, ওকালত, ওজন, ওজর, ওযু, ওয়াজিব, ওয়ারিশ, ওয়াসিল, ওয়াস্তে, ওল্লাহ, কদম, কদর, কবর, কবুল, কয়েদ, কলম, কসুর, কাওয়াল, কানুন, কাফন, কাফরি, কাফির, কামিজ, কায়দা, কায়েম, কালিয়া, কালেমা, কাহিল, কিতাব, কিয়ামত, কিসাস, কিস্তি, কিস্সা, কুদরত, কুমকুম, কুরআন, কেচ্ছা, কেতাব, কেবলা, কেরামতি, কেল্লাফতে, কৈফিয়ত, কোরবানি, ক্রোক, খতম, খতিয়ান, খয়রাত, খরিফ, খসড়া, খাজনা, খাজনা, খাতির, খাদিম, খাপ, খারিজ, খালসা, খাসা, খেতাব, খেয়াল, খেলাপ, খেসারত, গজল, গরিব, গলদ, গায়েব, গুঁতা, জওহর, জনাব, জমাট, জমানা, জমায়েত, জরিপ, জরিমানা, জলদি, জলসা, জল্লাদ, জান্নাত, জাফরান, জালিয়াত, জাহাজ, জাহান্নাম, জাহির, জিজিয়া, জিম্মা, জিরাত, জিরাফ, জিহাদ, জুলুম, জেরা, জেহাদ, জৌলুস, তওবা, তকত, তকদির, তকরার, তকলিফ, তছরুপ, তদবির, তদারক, তফশিল, তফাত, তবিয়ত, তরফ, তর্জমা, তলব, তসবিহ্, তহবিল, তাগিদ, তাজিয়া, তাজ্জব, তামাদি, তামামা, তারিফ, তালাক, তালিম, তালুক, তুফান, তুলকালাম, তেজারত, তোফা, তোয়াক্কা, দখল, দজ্জাল, দফা, দফারফা, দলিল, দাওয়াই, দাখিলা, দায়রা, দালাল, দুনিয়া, দোয়া, দোয়াত, দৌলত, নকল, নকশা, নগদ, নজর, নজির, নফল, নবাব, নসিব, নহবত, নহর, নাকাল, নাগাদ, নাজির, নায়েব, নিকাশ, নিকাহ, নিশা, নূর, নূর, নেহাত, ফকির, ফতুর, ফতে, ফতোয়া, ফরয, ফরাশ, ফর্দ, ফসকা, ফসল, ফাজিল, ফায়দা, ফিকির, ফুরসত, ফেরার, ফোয়ারা, ফৌজ, ফৌত, ফ্যাসাদ, বকেয়া, বদর, বদলা, বয়ান, বহর, বাকি, বাতিল, বাবদ, বিলকুল, বুরুজ, বেসাতি, বোরকা, মওকা, মকুব, মক্কেল, মক্তব, মজবুত, মজলিস, মজুত, মঞ্জিল, মঞ্জুর, মতলব, মদদ, মনিব, ময়দান, মর্জি, মশগুল, মশাল, মসজিদ, মসনদ, মসলা, মস্করা, মহকুমা, মহব্বত, মহররম, মহল্লা, মহাফেজ, মহাল, মাজেজা, মাতব্বর, মাদ্রাসা, মাদ্রাসা, মাফ, মাফিক, মামলা, মামুলি, মারফত, মালউন, মালিক, মালুম, মাল্লা, মাসুল, মাসোহারা, মিনতি, মিনার, মিযান, মুনশি, মুনসেফ, মুনাফা, মুয়াজ্জিন, মুরব্বি, মুলতবি, মুলুক, মুশকিল, মুসলিম, মুসাবিদা, মুস্তাহাব, মুস্তাহাসান, মুহুরি, মেরামত, মোকদ্দমা, মোকাবিলা, মোক্তার, মোক্ষম, মোতাবেক, মোতায়েন, মোন্দা, মোরব্বা, মোলায়েম, মোল্লা, মোসাহেব, মৌজ, মৌলবি, যাকাত, রফা, রসুল, রায়ত, রুজু, রুবাই, রেওয়াজ, রোয়াক, লহমা, লাখেরাজ, লায়েক, লেফাফা, লোকসান, শয়তান, শরবত, শরাব, শরিক, শহিদ, সওয়াল, সড়কাকি, সদর, সনদ, সফর, সবুর, সলিতা, সহিস, সাওম, সাকি, সাকিন, সাফ, সাব, সালাত, সিরাত, সুন্নাহ, হজ, হাওয়া, হারাম, হালাল, হালুয়া, হাশর, হিকমত, হিসাব, হুর।
ফারসি শব্দ : আইন, আওয়াজ, আঙুর, আচার, আজাদ, আতশবাজি, আদমশুমারি, আন্দাজ, আফসোস, আবাদ, আমদানি, আমেজ, আয়না, আরজি, আরাম, আশকারা, আসমান, আসান, আস্তানা, আস্তিন, ইয়ার, ইয়ার্কি, ইসবগুল, উমেদার, একতারা, একদম, একরোখা, এলাচি, এলেমদার, ওস্তাদ, কমজোরি, কাগজ, কানাচ, কাবুলি, কামান, কারখানা, কারচুপি, কারবার, কারসাজি, কারিগর, কিনারা, কিংখাব, কিস্তিমাত, কিস্তি, কুরতা, কেরদানি, কোফতা, কোতোয়াল, খঞ্জর, খঞ্জরি, খরগোশ, খরমুজ, খরিদ, খরিদ্দার, খস্থস, খাজা, খাজ্ঞাপোশ, খানদানি, খাম, খামাখা, খালাসি, খাস্তা, খুচরা, খুনোখুনি, খুন, খুনি, খুব, খুশকি, খুশি, খোদ, খোয়াব, খোদা, খোর, খোরপোষ, খোরাক, খোরাকি, খোশ, খোশবু, খোশা, খোশামোদ, গঞ্জ, গম্বুজ, গরম, গরমি, গর্দান, গালিচা, গুজরান, গুনাহগার, গুলজার, গুলনার, গুলবাগ, গোমস্তা, গোয়েন্দা, গোরস্তান, গোলাপ, গোলন্দাজ, গোস্তাকি, গ্রেপ্তার, ঘিঞ্জি, চরকা, চরকি, চর্বি, চশমখোর, চশমা, চাকর, চাকরি, চাদর, চালক, চারপায়া, চাঁদা, চিজ, চেহারা, চোস্ত, চৌবাচ্চা, জখম, জঙ্গল, জঙ্গি, জবানবন্দি, জবরদস্তি, জবাব, জমি, জরি, জাদি, জর্দা, জাজিম, জাদা, জাদু, জানোয়ার, জামদানি, জামা, জায়গা, জিঞ্জির, জিন্দাবাদ, জিন্দেগি, জুলফি, জেনানা, জের, জোরদার, ঝাড়ন্ড, ডেগরি, তক্তপোশ, তক্তা, তন্দুর, তরমুজ, তাকিয়া, তাজা, তাতার, তীর, তীরন্দাজ, তেজ, তোতা, তোবড়া, তোশক, তোশাখানা, দঙ্গল, দপ্তর, দপ্তরি, দম, দমকা, দরকার, দরখাস্ত, দরজা, দরদ, দরদালান, দরবার, দরবেশ, দরগা, দরাজ, দরিয়া, দরুন, দর্জি, দস্তা, দস্তানা, দস্তুর, দহরম, দাগ, দাগি, দাঙ্গা, দাদন, দামামা, দারোগা, দারোয়ান, দালান, দিলখোশ, দিস্তা, দুশমন, দুরবিন, দেদার, দেমাক, দেয়াল, দোকান, দোতারা, দোয়াব, দোপিঁয়াজি, দোশালা, দোস্তি, ধস্তাধস্তি, নওজোয়ান, নওরোজ, নফর, নামাজ, নমুনা, নরম, নর্দমা, নাচার, নাস্তানাবুদ, নালিশ, নাশতা, নাশপাতি, নিমক, নিশান, নিশানা, নোঙর, পয়দা, পয়মাল, পরওয়ানা, পরগনা, পরোয়া, পর্দা, পলক, পশম, পশমি, পাইক, পাইকারি, পাজামা, পাঞ্জা, পাঞ্জাবি, পাদান, পাপোশ, পাঁয়তারা, পারসি, পালোয়ান, পাল্লা, পিলসুজ, পুলিন্দা, পেয়াদা, পেশকার, পেশা, পেশাদার, পোদ্দারি, পোলাও, পোশ, পোশাক, পোস্ত, পোস্তা, ফন্দি, ফন্দিবাজ, ফরমান, ফরমায়েশ, ফরিয়াদ, ফাঁদ, ফিরিঙ্গি, ফিরিস্তি, ফিরোজা, বখরা, বখশিশ, বগল, বদ, বনাম, বন্দ, বুনিয়াদ, বনেদি, বন্দর, বন্দি, বন্দোবস্ত, বরখাস্ত, বরদার, বরদাস্ত, বরবাদ, বরাদ্দ, বরাবর, বর্গি, বর্শা, বস্তা, বস্তানি, বাগান, বাগিচা, বাচ্চা, বাজার, বাজিকর, বাজেয়াপ্ত, বাদশাহি, বাদাম, বাদামি, বান্দা, বাবরি, বারুদ, বালাখানা, বালিশ, বাসিন্দা, বাহবা, বাহানা, বিবি, বিবিআনা, বিবিজান, বিমার, বিরিয়ানি, বীমা, বুজরুকি, বুনিয়াদি, বেগার, বেচারা, বেজার, বেদম, বেনামি, বে-শরম, বেহুঁশ, ব্যারাম, মখমল, মগজ, মজাদার, মজুর, ময়দা, মরদ, মরিচ, মর্দানা, মর্মর, মলমল, মলিদা, মশক, মস্ত, মস্তান, মালিশ, মাহিনা, মুফত, মুর্দা, মেওয়া, মেহেরবান, মোহর, রংদার, রংমহল, রংবাজ, রসদ, রসিদ, রাহা, রাহাজানি, রুজি, রুমাল, রেজকি, রেহাই, রোজগার, রোশনাই, লঙ্গরখানা, লবেজান, লস্কর, লাগাম, শরম, শাগরেদ, শাদি, সানাই, সাবাস, শায়েস্তা, শাল, শালগম, শির, শোরগোল, শৌখিন, সওদা, সঙ্গিন, শনাক্ত, সফেদ, সবজি, সরকার, সরঞ্জাম, সরাইখানা, সালোয়ার, সরোদ, সর্দার, সারেং, সালতামামি, সিপাহি, সুপারিশ, সুর্মা, সেরেস্তাদার, সোপর্দ, সোয়ারি, হপ্তা, হরকরা, হরদম, হাঙ্গামা, হামেশা, হুঁশ, হুঁশিয়ার।
আরবি-ফারসির মিশ্রণ : ওয়াকিবহাল, ওরফে, কেতাদুরস্ত, খয়রাতি, খয়ের খাঁ, খাকবন্দি, খাতা, খেয়ালি, জমাদার, জলদি, তাজমহল, তালেবর, তাঁবেদার, দলিল-দস্তাবেজ, নবাবি, ফেরারি, ফৌজদারি, ফৌজি, বয়নামা, বরকন্দাজ, বায়নানামা, বালাই, বিলাতি, মজুমদার, মহাফেজখানা, মুসকিল-আসান, মেহনতি, লাচার, লেফাফা-দুরস্ত, শরবতি, সেকরা, সয়লাব, সোলেনামা, হকদার, হাউই, হাওয়াই, হারামজাদা।
ফারসি-আরবির মিশ্রণ : আবহাওয়া, আজগুবি, কুচকাওয়াজ, খামখেয়াল, খুন-খারাব, খুবসুরত, খোদাতালা, খোশমেজাজ, গরম-মসলা, জবরদখল, দস্তখত, দহরম-মহরম, নাজেহাল, না-দাবি, নাবালক, নারাজ, নাহক, নিমক-হারাম, নেক-নজর, পছন্দসই, বজ্জাত, বহাল, বাজিমাত, বামাল, বেয়াকুব, বে-কসুর, বে-ফাঁস, বে-হদ্দ।
ইংরেজি শব্দ : অফিস, আর্ট, ইঞ্জিন, এনামেল, এজেন্ট, কনস্টেবল, কফি, করগেট, ক্যাপ্টেন, কার্নিস, কলেজ, কেটলি, কেয়ার, কেস, কোট, কোর্ট, কোম্পানি, ক্যামেরা, ক্রিকেট, ক্লাব, ক্লাস, গেজেট, গেলাস, গেট, চেয়ার, জেল, জ্যাকেট, টাইপ, টিকিট, টিফিন, টেবিল, টেলিফোন, টেলিভিশন, টেন্ডার, টেলিগ্রাফ, ট্যাক্সি, ট্রেন, ডাক্তার, ডিপো, ড্রাম, ড্রেন, নোবেল, নম্বর, প্যাকেট, পাউডার, পার্শেল, পালিশ, পিন, পুলিশ, পেট্রোল, পেন, পেনসন, পেনসিল, পোস্ট অফিস, ফুটবল, ফ্যাশন, ফ্ল্যাট, ফ্যাক্স, বাক্স, বোনাস, মাইল, মাস্টার, মিটার, ম্যানেজার, রেল, রেডিও, শার্ট, সার্কাস, সার্জন, সিগন্যাল, সিনেমা, স্টার, স্টোর, স্টেশন, স্টিমার, হুক, হাইকোর্ট, হাসপাতাল ইত্যাদি।
পর্তুগিজ শব্দ : আয়া, আচার, আনারস, আতা, আলমারি, আলপিন, আলকাতরা, ইস্পাত, এনতার, কপি, ক্রুশ, কামিজ, কামরা, কেদারা, কেরানি, গরাদ, গামলা, গির্জা, গুদাম, চাবি, জানালা, তামাক, তোয়ালে, নিলাম, পারদ, পাউরুটি, পাদ্রি, পিরিচ, পিস্তল, পেঁপে, পেয়ারা, ফিতা, ফিলু, বালতি, বারান্দা, বেহালা, বোমা, বোতাম, মালঞ্চ, মার্কা, মাস্কুল, মিস্তিরি, সাগু, সাবান ইত্যাদি।
ফরাসি শব্দ : আঁশ, ইংরেজ, কুপন, কার্তুজ, ক্যাফে, ওলন্দাজ, বিস্কুট, বুর্জোয়া, ফ্রসেঁজ, রেস্তরাঁ, শেমিজ ইত্যাদি।
তুর্কি শব্দ : উজবুক, কাঁচি, কাবু, বিবি, চাকু, বোঁচকা, আলখাল্লা, কুলি, কোর্মা, খাতুন, বেগম, লাশ ইত্যাদি।
ওলন্দাজ শব্দ : ইসকুপ, তুরুপ, হরতন, রুইতন, টেক্কা, ইস্কাপন ইত্যাদি।
চীনা শব্দ : চা, চিনি, এলাচি, লিচু, টাইফুন, হোয়াংহো ইত্যাদি।
জাপানি শব্দ : হাস্নাহেনা, রিকশা, হারিকিরি, প্যাগোডা, নিপ্পন, টোকিও ইত্যাদি।
বার্মিজ শব্দ : লুঙ্গি, ফুঙ্গি, ঘুঘনি, কিয়াং, মিয়ানমার, আরাকান, ইয়াঙ্গুন ইত্যাদি।
রুশ শব্দ : বলশেভিক, মস্কভা, সোভিয়েত, স্পুৎনিক ইত্যাদি।
ইতালীয় শব্দ : রোম, ম্যাজেন্টা ইত্যাদি।
গ্রিক শব্দ : দ্রামে (drachma) > দাম, গোনোস (Gonos) > কোণ, কেন্টর (Centor) > কেন্দ্র ইত্যাদি।
মিসরীয় শব্দ : মিসরি > মিছরি।
প্রধানত ইংরেজি ভাষা থেকে আগত অন্যান্য ভাষার শব্দ : অস্ট্রেলিয়ান – ক্যাঙ্গারু; জার্মান – ফ্যুরার; তিব্বতি – লামা; দক্ষিণ আফ্রিকা – জেব্রা; পেরু – কুইনাইন।
- মালয় – কাকাতুয়া, গুদাম, কিরিচ, সাগু;
- সিংহল – বেরিবেরি।
- তুর্কি-ফারসির মিশ্রণ – চুগলিখোর, মোগলাই।
- আরবি-তুর্কির মিশ্রণ – খাজাঞ্চি।
- আরবি-চীনার মিশ্রণ – কাবাব-চিনি।
ভাষা কখনো স্থির নয়; সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি পরিবর্তিত হয় এবং নতুন নতুন শব্দ গ্রহণ করে আরও সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে। বাংলা ভাষাও তার ব্যতিক্রম নয়। বিভিন্ন ভাষা থেকে আগত শব্দগুলো বাংলাকে কেবল সমৃদ্ধই করেনি, বরং আমাদের সংস্কৃতি ও ইতিহাসের বহুমাত্রিক যোগাযোগের সাক্ষ্য বহন করছে। বিদেশি উৎস থেকে আসা এই শব্দগুলো আজ বাংলা ভাষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে এবং আমাদের দৈনন্দিন যোগাযোগকে সহজ ও বৈচিত্র্যময় করেছে।
বাংলা সাহিত্যে চলিত রীতির প্রথম সার্থক রূপকার প্রমথ চৌধুরী বাংলা ভাষার জাতপাত সম্পর্কে বলেছিলেন, “বাংলা সাহিত্য থেকে আরবী-ফার্সী শব্দ বহিষ্কৃত করতে সেই জাতীয় সাহিত্যিকই উৎসুক যারা বাংলা ভাষা জানেন না।” অবশ্য প্রখ্যাত সাহিত্যিক দীনেশচন্দ্র সেন এ বিষয়টি গভীরভাবে অনুধ্যান করে বলেছিলেন “গত পাঁচ, ছয়শত বৎসরের মধ্যে বাংলা ভাষাটা হিন্দু ও মুসলমান উভয়ের হইয়া গিয়াছে। মুসলমানের ধর্মশাস্ত্র ও সামাজিক আদর্শ অনেকটা আরবী ও ফার্সী সাহিত্যে লিপিবদ্ধ। সেই সাহিত্যের জ্ঞান তাহাদের নিত্যকর্মের জন্য অপরিহার্য। আমাদের যেমন সংস্কৃতের সহিত সম্বন্ধ আছে, আরবী ও ফার্সীর সঙ্গে তাহাদের কতকটা তাই।” দীনেশ চন্দ্রের এই উক্তি বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য।
শিক্ষার্থীদের জন্য এই শব্দগুলোর উৎস জানা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে ভাষা সম্পর্কে সচেতনতা ও ভাষাবোধ বৃদ্ধি পায়। ‘ভাষায় ভাসি’ ক্যাম্পেইনের এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের ভাষা শেখার আনন্দকে আরও গভীর করবে এবং বাংলা ভাষার ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্য সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করবে। মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা বজায় রেখে অন্য ভাষার শব্দ গ্রহণের মধ্য দিয়েই বাংলা ভাষা ভবিষ্যতেও আরও সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে।
